পাথরকুচি পাতার উপকারিতা

পাথরকুচি পাতা

প্রিয় পাঠক আজকে আপনাদের সাথে একটি জাদুকরী গাছের আশ্চর্যজনক বেশ কিছু উপকারিতা বা স্বাস্থ্য গুন নিয়ে আলোচনা করবো।এই গাছ আমাদের বাড়ির আনাচে কানাচে দেখা যায়।এমনকি এই গাছ কোন যত্ন ছাড়া,পানি ছাড়া,সার,ঔষুধ ছাড়াই বড় হয়।গাছটি আমরা কমবেশি সবাই চিনি,গাছটির নাম পাথরকুচি।এই পাথরকুচি গাছের পাতার অনেক উপকার রয়েছে।যা শুনলে আপনিও অবাক হবেন।পাথরকুচি একটি ভেষজ ও বীরুতজাতীয় উদ্ভিদ,এটি খুব একটা লম্বা হয় না।
১ থেকে ২ ফুটের এই গাছটির পাতার রং সবুজ,ডিম্বাকৃতির,মাংসল এবং পুরু।এর পাতার চারপাশে খাজকাটা থাকে,মাটিতে এইপাতা ফেলে রাখলে এর চারপাশের খাঁজ থেকে নতুন গাছ জন্মায়।তাই পাথরকুচি গাছকে জগতের বিস্ময় বলা হয়ে থাকে।পাথরকুচির বৈজ্ঞানিক নাম Kalanchoe pinnata. বর্তমানে পাথরকুচি গাছ বাগান বিলাসে সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও দেখা যায়।এই গাছটির পাতা ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।ধারণা করা হয়ে থাকে পাথরকুচি পাতার ব্যবহারে একশত এর বেশি রোগের চিকিৎসায় উপকারে আসে।
কলার-খোসা-দিয়ে-রূপচর্চা

পোস্ট সূচিপত্রঃ পাথরকুচি পাতার উপকারিতা

কিডনীতে পাথর নিরাময়

কিডনীতে পাথর একটা বিপজ্জনক ব্যাধি,দূষিত পানির কারনে মানুষের কিডনীতে পাথর হয়ে থাকে।পাথরকুচি পাতার রস কিডনীর পাথর নিয়াময় করে।দিনে ২-৩ টি পাতা চিবিয়ে অথবা রস করে খেলে খুব উপকার পাওয়া যায়।

শিশুদের পেট ব্যাথা

শিশুদের পেট ব্যাথা হলে ৪০-৫০ ফোটা পাথরকুচির রস পেটে মালিশ করলে পেট ব্যাথা সেরে যায়।

মৃগী রোগী

 আমরা কমবেশি সবাই জানি যে মৃগী রোগীদের যখন সমস্যা শুরু হয় তারা প্রচুর পরিমানে ছটফট করে,এমনকি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।ঠিক সেইসময় পাথরকুচি পাতার রস সেই রোগীকে খাওয়ালে সমস্যার সমাধান হয়।

ত্বকের যত্ন

পাথরকুচি পাতা মানুষের শরীরের জ্বালাপোড়া কমানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমানে পানি থাকে।পাথরকুচি পাতা বেটে ত্বকে লাগালে ত্বক ভালো থাকে।এছাড়াও ব্রণের হাত থেকে বাঁচতে পাথরকুচি পাতা ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

পেট ফাঁপা

অনেক সময় দেখা যায় যে আমাদের পেট ফুলে যায়,প্রসাব আটকে যায়, বায়ু সরে না।এক্ষেত্রে পাথরকুচি পাতার রস আর চিনি হালকা গরম পানির সাথে মিশিয়ে খেলে বায়ু সরে যায়,প্রসাবের গতি বাড়ে এবং পেট ফাঁপা সেরে যায়। 

পাইলস

পাথরকুচি পাতার রসের সাথে গোল মরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস ও অশ্বের মত জটিল রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

উচ্চ রক্তচাপ

পাথরকুচি পাতা নিয়মিত খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করা যায় এবং মুত্রথলির সমস্যার সমধান পাওয়া যায়।

শরীর জ্বালাপোড়া

দু-চামচ পাথরকুচি পাতার রস হালকা গরম পানিতে মশিয়ে খেলে শ্রীর জ্বালাপোড়া থেকে নিস্তার পাওয়া যায়।

জণ্ডিস

লিভারের যেকোনো সমস্যার সমাধানে পাথরকুচি পাতা এবং এর জুস খুবই উপকারি।

ক্ষতস্থানে রক্তপাত বন্ধ করে

আমাদের শরীরের কোনো স্থানে কেটে গেলে আমরা দূর্বা ঘাস অথবা গাঁধা ফুল গাছের পাতা বেটে ক্ষতস্থানে লাগাই,এতে রক্তপাত বন্ধ হয়।কিন্তু আমরা যদি ঠিক একই ভাবে ক্ষতস্থানে পাথরকুচি পাতা ব্যবহার করি তাহলে আরও দিগুণ উপকার পাওয়া যাবে।

আমাশয়,ডায়রিয়া ও কলেরা

রক্ত আমাশয়,ডায়রিয়া এবং কলেরা মানুষের সচারচর রোগ। ৩ মিলিগ্রাম পাথরকুচির রসের সাথে ৩ গ্রাম জিরা এবং ৬ গ্রাম ঘি মিশিয়ে নিয়মিত কয়েকদিন খেলে রক্ত আমাশয়,ডায়রিয়া এবং কলেরা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

মাথা ব্যাথা

প্রচন্ড মাথা ব্যাথা এবং মাথা ভারি থেকে বাঁচতে পাথরকুচির পাতা খুবই উপকারি।পাথরকুচির পাতা দিনে ২ বার খেলে মাথা ব্যাথা সেরে যায়।

পুরাতন সর্দি

আমাদের অনেকের মধ্যে দেখা যায় যে সারা বছর সর্দি লেগে থাকে,কোনো ঔষুধে সর্দি সারে না।তাদের জন্য পাথর কুচির পাতার রস খুবই কার্যকরী।পাথরকুচি পাতার রস হালকা গরম করে,গরম থাকা অবস্থায় তার সাথে সোহাগার খই ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।মিশ্রন টি প্রতিদিন সকালে এবং বিকেলে নিয়মিত খেলে পুরাতন সর্দি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য

মানুষের কোষ্ঠকাঠিন্য হলে পাথরকুচির রস গরম করে মধুর সাথে মিশিয়ে নিয়মিত খেলে উপকার পাওয়া যায়।

মেহ সমস্যা

অনেক সময় পুরাতন সর্দির জন্য শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফোঁড়ার মতো দেখা যায়,একেই মেহ বলে।প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে কাঁচা পাথরকুচির পাতা চিবিয়ে খেলে মেহর সাথে সাথে পুরাতন সর্দিও উপশম হয়।

গলগন্ড

পাথরকুচি পাতা কিডনী এবং গলগন্ডের পাথর অপসারন করে।প্রতিদিন অন্ততঃ ২-৩ টি পাথরকুচির পাতা চিবিয়ে অথবা রস করে খেলে গলগন্ডের পাথর অপসারন হয়ে যায়।

বিষাক্ত পোকা মাকড়ের কামড়

বিষাক্ত পোকা মাকড় কামড়ালে ক্ষতস্থানে পাথরকুচির রস গরম করে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

শেষকথা

মহান সৃষ্টিকর্তা মানুষের জীবন চলার পথে প্রত্যেকটা সমস্যার সমাধান দিয়ে দিয়েছেন।ঠিক তেমনি প্রত্যেকটা রোগের ঔষুধ ও দিয়ে দিয়েছেন ভেষজ উদ্ভিদের মধ্যে।পাথরকুচিও তেমন একটা নিয়ামত।তারপরেও আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনু্যায়ী প্রত্যেকটা নিয়ামত কাজে লাগাবো।
পরিশেষে আপনার সু-সাস্থ্য কামনা করে শেষ করছি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Ontech24 blog এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url